মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
জেলার ৭ উপজেলায় ৭০ ভাগ ভর্তুকিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনসহ ২৭৭ টি বিভিন্ন ধরনের আধুনিক কৃষি যন্ত্র বিতরণ করছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এসব যন্ত্র প্রদান শুরু হয়েছে। এসব যন্ত্রের মধ্যে কম্ভাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ১১৭ টি, বেড প্লন্টার ২৮টি, পাওয়ার স্প্রেয়ার ৩টি, সিডার ৬৪টি, ফ্রেসার ৪২টি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ১১টি, রিপার ৯টি ও মেডসেলার ৩টি রয়েছে। জমি চাষ থেকে ফসল মাড়াই-সমগ্র পক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ধান কাটতে শ্রমিক সংকট দূর করা ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রমিক দিয়ে একর প্রতি জমিতে ধান কাটতে কৃষকদের যেখানে খরচ হয় ৫ হাজার টাকা। সেখানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ব্যয় হবে মাত্র আড়াই হাজার টাকা। প্রতিটি মেশিনের মূল্য ২৫ লাখ টাকা থেকে ৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর ধানের চারা রোপণের আধুনিক পদ্ধতি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র’র মাধ্যমে ঘন্টায় ২৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা যায়, যা ৪জন শ্রমিক দিয়ে করলে ৩ দিন সময় লাগে। এছাড়া ধান মাড়াইয়ের ফ্রেসার, বীজ রোপণের সিডারসহ সকল কৃষি যন্ত্রই কৃষকদের কার্যক্রম সহজ ও গতিশীল করছে।
উপ সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বাসস’কে বলেন, এসব কৃষি পণ্যের মোট মূল্যের ৩০ ভাগ টাকা দিয়ে কৃষকরা ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে। দিন দিন জেলায় কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। যেসব কৃষক এসব যন্ত্র পাচ্ছে তাদেরও একটা বাড়তি আয় হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত ধান কাটতে যন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষকদের পরিশ্রম অনেক কমে গিয়ে লাভ বেশি হচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ কৃষকরাই যন্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: হাসান ওয়ারেসুল কবির বাসস’কে জানান, দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করার জন্যই কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা হচ্ছে। একসময় লাঙ্গল-গরু দিয়ে হালচাষ করানো হলেও এখন প্রায় অধিকাংশ কার্যক্রম যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। কৃষকদের জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান প্যাকেটজাত করণের সকল কাজই অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রের মাধ্যমে সহজ ও দ্রততার সাথে হচ্ছে। জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ কৃষি জমি যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে জেলায় শতভাগ জমি এর আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বিভাগ বলে জানান তিনি।